নব্বইয়ের দশকে কম্বোডিয়ার ক্যাসিনোগুলোতে শুরু হওয়া এই খেলাটির মূল উদ্দেশ্য ছিল সাধারণ নিয়মে বাজির সুযোগ দেওয়া। বর্তমানে ম্যানিলার স্টুডিওগুলো থেকে ইংরেজিতে পরিচালিত এই লাইভ টেবিলগুলোতে ঐতিহ্যবাহী ক্যাসিনোর মতো রিয়েল-টাইম রোড ম্যাপ দেখা যায়, যা পূর্ববর্তী রাউন্ডের ফলাফল বুঝতে সাহায্য করে। প্রতিটি রাউন্ড সাধারণত মাত্র ২৫ থেকে ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে শেষ হয়। গেমের নিয়ম একেবারে সহজ—ডিলার 'ড্রাগন' এবং 'টাইগার' উভয়ের জন্য একটি করে কার্ড দেন। এখানে 'A' হলো সবচেয়ে ছোট এবং 'K' সবচেয়ে বড় কার্ড। কার্ডের স্যুটের ওপর ভিত্তি করে কোনো ফলাফল নির্ধারিত হয় না।
এই খেলায় মূলত তিনটি সাধারণ বাজির বিকল্প থাকে: ড্রাগন, টাইগার অথবা টাই (ড্র)। ফিলিপাইনের এই লাইভ টেবিলগুলোতে বাজির পরিমাণ ১০০ পিএইচপি থেকে শুরু করে ৫,০০,০০০ পিএইচপি পর্যন্ত হতে পারে। ড্রাগন বা টাইগারের ওপর বাজি ধরে জিতলে সাধারণত এক-এ-এক (১:১) হারে পেআউট পাওয়া যায়। অন্যদিকে, টাই হলে সেটি এক-এ-আট বা এক-এ-এগারো হারে পেআউট দেয়। কোনো জটিল কার্ডের হিসাব না থাকায় স্ক্রিনে থাকা কাউন্টডাউন এবং ডিলারের দ্রুত কার্ড বিতরণের দিকেই শুধু মনোযোগ দিতে হয়।
তবে নিয়ম সহজ হওয়ার অর্থ এই নয় যে এখানে কোনো ঝুঁকি নেই। টাই বা ড্রয়ের উচ্চ পেআউট প্রথমদিকে খুব আকর্ষণীয় মনে হলেও, পরিসংখ্যানে এর ভিন্ন রূপ দেখা যায়। সাধারণত আট ডেক কার্ড দিয়ে খেলা হলে ড্রাগন বা টাইগারের ক্ষেত্রে ক্যাসিনোর সুবিধা বা হাউস এজ থাকে প্রায় ৩.৭% থেকে ৭.৫%। কিন্তু টাইয়ের ক্ষেত্রে এই সুবিধা ১০% থেকে এমনকি ৩৩% পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। তাছাড়া, অনেক টেবিলেই ফলাফল টাই হলে ড্রাগন বা টাইগারে ধরা বাজির অর্ধেক বা পুরো অংশই হেরে যাওয়ার নিয়ম থাকে। তাই দ্রুতগতির এই বিনোদনে অংশ নেওয়ার আগে পেআউট এবং গাণিতিক সম্ভাবনাগুলো পরিষ্কারভাবে জানা থাকা জরুরি।