ফিলিপাইনের আর্কেড গেমের দুনিয়ায় বহুল প্রচলিত একটি ধারণা হলো, সঠিক নিশানা থাকলেই ফিশ শুটিং গেমে জয় নিশ্চিত করা সম্ভব। তবে এর পেছনের মূল মেকানিজম আসলে ভিন্ন কথা বলে।
জাপানের সাধারণ বিনোদনমূলক গেম থেকে শুরু হয়ে চীনে রাতের বাজারের মাছ ধরার খেলা হিসেবে পরিচিতি পাওয়া এই গেমটি আজ একটি বিশাল শিল্প। অনেকেই মনে করেন, ভালো নিশানা থাকলেই এই গেমে সর্বদা জেতা যায়। কিন্তু Bajiok-এর মতো প্ল্যাটফর্মে যারা নিয়মিত খেলেন, তারা জানেন যে এর পেছনে কেবল খেলোয়াড়ের দক্ষতা নয়, বরং আর্কেড এবং অনলাইন অ্যালগরিদমের একটি বড় ভূমিকা রয়েছে। ভার্চুয়াল কামান থেকে গুলি ছুড়ে মাছ শিকার করার এই খেলাটি এখন স্মার্টফোন এবং ইন্টারনেটের কল্যাণে 실তীয় সীমানা ছাড়িয়ে গেছে।
প্রযুক্তি ও ইন্টারনেটের উন্নতির সাথে সাথে এই ফিশ হান্টার আর্কেড মেশিনগুলো এখন আর কেবল ভৌত মেশিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ফিলিপাইনের মেট্রো ম্যানিলা, সেবু এবং দাভাও শহরের বিভিন্ন আর্কেড ও বিনোদন কেন্দ্রে মাল্টিপ্লেয়ার ফিশ শুটিং টেবিল গেম বিপুল জনপ্রিয়তার সাথে পরিচালিত হয়ে আসছে। ম্যানিলার কুইয়াপো এবং সেবুর এসএম আর্কেড ভেন্যুগুলোতে প্রতিদিন অসংখ্য খেলোয়াড় এই শুটিং আর্কেড খেলায় অংশগ্রহণ করেন। মুনতিনলুপা সিটির ফেস্টিভাল মলে অবস্থিত এক্স-সাইট অ্যামিউজমেন্ট সেন্টার কিংবা তাগুইগ সিটির মার্কেট! মার্কেট! মলে এই গেমগুলো পারিবারিক বিনোদনের অন্যতম অনুষঙ্গ হয়ে উঠেছে। সাধারণত ৬ জন, ৮ জন অথবা ১০ জন প্রতিযোগী একটি মেশিনের চারপাশে বসে একই সাথে এই খেলায় অংশ নেন। এর জনপ্রিয়তা এতটাই যে, ২০২৪ সালের ২৩ অক্টোবর মালভার বাতাঙ্গাস (বুথ ১) এবং ম্যাককিনলে বিজিসি (বুথ ২)-তে ৮-সিটার মেশিনের একটি বড় প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়।
গেমের নিয়মকানুন বেশ সহজ এবং এটি দ্রুত আসক্তি তৈরি করতে পারে। স্ক্রিনে থাকা ভার্চুয়াল কামান নিয়ন্ত্রণ করে বিভিন্ন সামুদ্রিক প্রাণীকে লক্ষ্য করে গুলি বা জাল ছুড়তে হয়। প্রতিটি মাছের জন্য আলাদা পেআউট রেট এবং ভিন্ন ভিন্ন কাঠিন্যের মাত্রা নির্ধারিত থাকে। বিশেষ করে বস লেভেলের দানবীয় সামুদ্রিক প্রাণী বা বিরল প্রজাতির মাছগুলোকে পরাস্ত করতে প্রচুর পয়েন্ট খরচ করতে হয়। তবে এই আকর্ষণীয় ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট এবং আর্কেড শুটিংয়ের কারণে অনেকেই ভুলে যান যে গেমটি মূলত প্রবাবিলিটি বা সম্ভাবনার ওপর নির্ভরশীল। ঠিকমতো নিশানা করলেই যে বিশাল পুরষ্কার পাওয়া যাবে, এমনটা ভাবা ভুল।
এই গেমগুলোর নিয়ন্ত্রণ এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ফিলিপাইন অ্যামিউজমেন্ট অ্যান্ড গেমিং কর্পোরেশন (PAGCOR) আর্কেড ও অনলাইন ফিশ গেম পরিচালনাকারী সংস্থাগুলোর জন্য নিয়ন্ত্রক তদারকি প্রদান করে। তবে কিছু জায়গায় অননুমোদিত ও অবৈধ কার্যক্রম হিসেবে এর অপব্যবহারও দেখা যায়। উদাহরণস্বরূপ, ২০২৩ সালের ২৭ জুন মেট্রো ম্যানিলার লাস পিনাসের আলমাঞ্জা উনো এলাকায় অবস্থিত হং তাই কম্পাউন্ডের একটি অনলাইন গেমিং কেন্দ্রে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ২,৮১২ জনকে উদ্ধার করে। একইভাবে, ২০২৪ সালের ১ সেপ্টেম্বর সেবু দ্বীপের একটি রিসোর্টে ১৫০ জনের বেশি বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়, এবং ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে কুইজন সিটিতে সিআইসিসি, পিসিএসও এবং পুলিশের যৌথ অভিযানে অনুমোদনহীন জুয়া কার্যক্রমে জড়িত ৭ জন সন্দেহভাজন গ্রেপ্তার হয়।
সুতরাং, এই গেমটি খেলার সময় আয়ের নিশ্চিত উৎস হিসেবে না দেখে একটি নিছক বিনোদন হিসেবে গ্রহণ করা উচিত। হেরে যাওয়া অর্থকে বিনোদনের সাধারণ খরচ হিসেবে বিবেচনা করে, আগে থেকেই নির্দিষ্ট বাজেট এবং সময় নির্ধারণ করে নেওয়াটা বুদ্ধিমানের কাজ। অতিরিক্ত বাজেট খরচ হয়ে গেলে বা গেমটি মানসিক চাপ তৈরি করলে তখনই খেলা থামিয়ে দেওয়া উচিত। যুক্তিযুক্ত এবং পরিমিত অংশগ্রহণই পারে এই গেমের প্রকৃত আনন্দ উপভোগ করতে সাহায্য করতে।
ফিশ টেবিল গেম এবং ফিলিপাইনে এর মেকানিজম ও তদারকি সম্পর্কে পাঠকদের মনে থাকা কিছু সাধারণ প্রশ্নের উত্তর নিচে দেওয়া হলো।
না, অনেকেই এটি বিশ্বাস করলেও, এই গেমগুলো মূলত প্রোগ্রাম করা সম্ভাবনা বা প্রবাবিলিটির ওপর নির্ভর করে। নিশানা যতই ভালো হোক না কেন, চূড়ান্ত ফলাফল সিস্টেমের মেকানিজমের মাধ্যমে নির্ধারিত হয়।
ম্যানিলা, সেবু বা দাভাও শহরের বিভিন্ন মলে অবস্থিত আর্কেড ফিশ হান্টার টেবিলগুলোতে সাধারণত ৬ জন, ৮ জন অথবা ১০ জন প্রতিযোগী একসাথে বসে খেলার ব্যবস্থা থাকে।
ফিলিপাইনে আর্কেড ও অনলাইন ফিশ গেম পরিচালনাকারী সংস্থাগুলোর জন্য নিয়ন্ত্রক তদারকি প্রদান করে ফিলিপাইন অ্যামিউজমেন্ট অ্যান্ড গেমিং কর্পোরেশন (PAGCOR)।
ফিশ শুটিং গেমের আসল মেকানিজম এবং বিনোদনের প্রকৃত উদ্দেশ্য বোঝার পর, আপনি যদি একটি নিরাপদ, নিয়ন্ত্রিত এবং বিশ্বস্ত পরিবেশে আপনার গেমিং অভিজ্ঞতা উপভোগ করতে চান, তবে Bajiok আপনার জন্য একটি নির্ভরযোগ্য পছন্দ হতে পারে। আজই যুক্ত হোন এবং আপনার দক্ষতা যাচাই করুন।
Register at Bajiok